
অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব পালন নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক সমালোচনার বিষয়ে মুখ খুলেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি জানান, ভালো কাজের জন্য মূল্য দিতে হয় জেনেই তিনি সরকারে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সেই মূল্য এতটা কঠিন ও ভয়াবহ হবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি।
রোববার দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে ফারুকী বলেন, সরকারে যোগ দেওয়ার পর এমন অনেক মানুষের কাছ থেকে সমালোচনা ও মন্তব্য এসেছে, যাদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবনে কখনো কোনো সম্পর্ক ছিল না। তাদের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তার ভাষায়, বর্তমানে বিভিন্ন ব্যক্তি তার সম্পর্কে নানা মন্তব্য করছেন এবং সাংবাদিকরা সেসব বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করছেন। বিষয়টিকে তিনি নিজের জন্য অস্বস্তিকর ও বিব্রতকর অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফারুকী দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যাচার ও সংগঠিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে, সেগুলোই প্রমাণ করে যে তিনি দায়িত্ব পালনকালে সঠিক কাজ করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, যেকোনো সংকটময় সময়ে তিনি মানুষের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান থেকে সরে যাবেন না।
নিজের পেশাগত জীবন প্রসঙ্গে ফারুকী বলেন, তার পুরো ক্যারিয়ারই বেসরকারি খাতনির্ভর। বিজ্ঞাপন, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে নিজের কাজের মাধ্যমে তিনি একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন। তার মতে, তিনি যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, তা দর্শক ও কাজের মানের কারণে; কোনো সরকারের সহায়তায় নয়।
তিনি আরও বলেন, কাজ পাওয়ার জন্য কখনো কোনো সরকারের দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজন হয়নি। বরং কাজের গুণমান এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে তিনি ও তার সহকর্মীরা ইন্ডাস্ট্রিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল—এমন অভিযোগের জবাবও দিয়েছেন ফারুকী। তিনি দাবি করেন, কোনো সরকারের সঙ্গেই তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল না। সরকারি কিছু প্রকল্পে তার প্রতিষ্ঠান কাজ করলেও সেগুলোর সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত এবং তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের তুলনায় তা খুবই নগণ্য।
ফারুকীর মতে, সরকারি কাজের তুলনায় তিনি বরাবরই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন। বিজ্ঞাপন শিল্পে নিজের স্বাধীনচেতা মনোভাবের কারণেও অনেক প্রতিষ্ঠান তাকে নিয়ে সতর্ক থাকত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছু মানুষের প্রচারণার কারণে তাকে এমন বিষয় নিয়ে সময় ব্যয় করতে হচ্ছে, যা তিনি অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করেন। এই পরিস্থিতিকে তিনি বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তার এই মন্তব্য ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সমর্থক ও সমালোচক উভয় পক্ষই বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন।