
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দেওয়া আদালতের রায়কে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রবিবার সুপ্রিম কোর্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত ও সক্রিয় ভূমিকার কারণেই এত কম সময়ের মধ্যে মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, শিশু রামিসার ওপর সংঘটিত নৃশংস অপরাধের ঘটনায় রাষ্ট্রের সব দায়িত্বশীল সংস্থা আন্তরিকভাবে কাজ করেছে। তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।
তার মতে, এই মামলার মাধ্যমে রাষ্ট্র দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার করেছিল, তা বাস্তবে রূপ পেয়েছে। বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতেও এই রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে রবিবার সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালত প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
রায়ের পাশাপাশি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে এই রায় দেন।
মামলাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। ঘটনার পর দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা, আত্মপক্ষ সমর্থন এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের প্রক্রিয়া শেষ হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি ছিল, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামিদের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত তথ্য অপরাধ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। আদালতও সেই উপাদান বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু নির্যাতন ও হত্যা সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং অপরাধ দমনে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে। রামিসা হত্যা মামলার রায়ও সেই দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।