
সরকার ১ জুলাই থেকে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো (পে স্কেল) কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন পে স্কেল একবারে নয় বরং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
প্রাথমিক রূপরেখা অনুযায়ী, অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বাজেটের চাপ বিবেচনায় রেখে নতুন বেতন কাঠামো তিনটি ধাপে কার্যকর করা হতে পারে। প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল বেতনের একটি বড় অংশ বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি অংশ সমন্বয় করা হবে। তৃতীয় ধাপে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, বর্তমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই বেতন বৈষম্য কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ গ্রেডের বেতনও নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আলোচনা চলছে।
নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীরাও এর আওতায় আসতে পারেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে সীমিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক অবস্থায় কিছুটা স্বস্তি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ কমিটি কাজ করছে। নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে এই ভাতা কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
অর্থনীতিবিদ ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের আয় কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত পুরো বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।