
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের জাতীয় নির্বাহী কমিটির পাঁচ সদস্যসহ মোট নয় নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতাদের বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এছাড়া জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন ও আব্দুল খালেককেও বহিষ্কারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নিরব, সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সংগঠনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার বিষয়ে ভবিষ্যতেও কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট থাকার পরও কিছু নেতা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় এই সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলীয় শৃঙ্খলার বার্তা দেওয়া হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
উল্লেখ্য, এর আগেও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার অভিযোগে বিএনপি বিভিন্ন সময় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। সর্বশেষ এই বহিষ্কারের ঘটনায় দলটির ভেতরে নির্বাচনী কৌশল ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।