
পারস্য উপসাগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানিগুলো বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল প্রতিষ্ঠান রসনেফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইগর সেচিন।
রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে (এসপিআইইএফ) বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ও শিল্পখাতেও পড়ছে।
সেচিনের মতে, এই পরিস্থিতিতে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলো এক ধরনের প্রতিযোগিতাহীন সুবিধা পেয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে তারা উচ্চমূল্যে জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ পেয়েছে এবং নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের একটি প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজের স্বার্থকে আরও এগিয়ে নিতে চাইছে। তবে এই ধরনের পরিবর্তনের কৌশলগত ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। সমুদ্রপথে পরিবাহিত বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য এই রুট ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছে। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর ফলে বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সেচিন সতর্ক করে বলেন, যদি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথগুলোতে এ ধরনের অস্থিরতা অব্যাহত থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে। তিনি মালাক্কা, বাব এল-মান্দেব এবং জিব্রাল্টার প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোর কথাও উল্লেখ করেন।
বক্তব্যে ওপেক প্লাস জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রসনেফট প্রধান। তার মতে, জোটভুক্ত কয়েকটি দেশের বেরিয়ে যাওয়ার কারণে ওপেক প্লাসের কার্যকারিতা আগের তুলনায় কমে গেছে। এর ফলে বিশ্ব তেলবাজারে উৎপাদন সমন্বয় এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতাও দুর্বল হয়েছে।
তিনি জানান, গত এক দশকে জোটভুক্ত দেশগুলোর মোট উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সময়ে রাশিয়ার তেল উৎপাদনও হ্রাস পেয়েছে, যা পূরণ করতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।
বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ইগর সেচিনের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।