
যশোরের বেনাপোলে ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (তারিখ উল্লেখিত) রাত ১০টার দিকে শার্শা উপজেলার বেনাপোল পৌরসভার বড়আচড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেন (৩৬) অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সোহাগ হোসেন বড়আচড়া গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ছেলে। তিনি বর্তমানে চেকপোস্ট এলাকার মশিয়ারের বাড়ির নিচতলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি অফিস থেকে বাসায় ফেরেন।
প্রায় ওই সময় ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তার বাসার সামনে এসে অবস্থান নেয়। প্রথমে তারা উচ্চস্বরে গালিগালাজ ও হুমকি দেয়। পরে একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা ঘরের জানালা ও দরজা লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলির আঘাতে জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং দরজায় একাধিক গুলির চিহ্ন দেখা যায়।
হামলার পরপরই স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা জানালা ভাঙা কাচ, দরজায় গুলির দাগ এবং আশপাশে পড়ে থাকা গুলির খোসা দেখতে পান। খবর পেয়ে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে অনেকেই ককটেল বিস্ফোরণ ভেবেছিলেন, পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলির চিহ্ন দেখে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেন। হামলাকারীরা কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেন জানান, তিনি ঘরের ভেতরে ছিলেন। হামলাকারীরা বাইরে থেকে তাকে ডাকাডাকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এরপর হঠাৎ গুলি চালানো শুরু করে। একটি গুলি জানালার কাচ ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে দেয়ালে আঘাত করে, আরেকটি গুলি দরজা ভেদ করে বাইরে চলে যায়।
তিনি বলেন, “আমি যদি ওই সময় জানালার পাশে থাকতাম, তাহলে বাঁচতে পারতাম না। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রাণে রক্ষা পেয়েছি।”
তিনি আরও দাবি করেন, কিছুদিন আগে একটি ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই এ হামলা হতে পারে বলে তার ধারণা। এলাকায় একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা থাকায় ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বড়আচড়া এলাকা বেনাপোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল। সেখানে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। হামলার সময় আশপাশে নারী, শিশু ও পথচারীরা ছিলেন। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারত।
একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে। প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসাসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।