
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী কয়েক দিন ধরে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার (৬ জুন) প্রকাশিত সর্বশেষ পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমিবায়ু কক্সবাজার উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে, যা দেশের আবহাওয়াকে আরও সক্রিয় করে তুলবে।
প্রথম ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। এই সময়ে সারা দেশে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমে যেতে পারে।
দ্বিতীয় দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায়ও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ও কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণ হতে পারে এবং তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
তৃতীয় দিনেও একই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকবে। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় এবং অন্যান্য বিভাগের দু-এক জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে। পূর্বাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও অন্যান্য এলাকায় তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
চতুর্থ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। এ সময় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের কিছু অংশে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
পঞ্চম দিনে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বিস্তৃত হতে পারে। রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগে অনেক জায়গায় এবং অন্যান্য বিভাগে কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এ সময়ও কোথাও কোথাও অতিভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই সময়কালজুড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকতে পারে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় কাজ করা, নদীপথে চলাচল এবং ঝড়ের সময় বাইরে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এদিকে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকবে এবং দেশের আবহাওয়া বেশিরভাগ সময়ই মেঘলা ও আর্দ্র থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বৃষ্টিপাত কৃষি খাতে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তবে অতিভারি বর্ষণ হলে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর নাগরিকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় আবহাওয়ার হালনাগাদ তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে।