
ভোলার লালমোহন উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় হাসনাইন নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে বদরপুর ইউনিয়নের গফুর চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত হাসনাইন দুপুরের দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে তার ভাগনি জামাইয়ের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বালুরচর গ্রামের গজউদ্দিন দালাল বাড়ির চান মিয়া দালালের ছোট ছেলে।
যাত্রাপথে জনতা বাজারের উত্তর পাশে গফুর চেয়ারম্যান বাড়ির সামনের সড়কে পৌঁছালে হঠাৎ চলন্ত মোটরসাইকেলের চাকা পিছলে যায়। এতে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা একটি গাছের সঙ্গে প্রচণ্ডভাবে ধাক্কা খান। সংঘর্ষের ফলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দ্রুত লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে হাসনাইনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের দুলাভাই জাকির হোসেন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাসনাইনকে উদ্ধার করেন। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসকরা তাকে আর বাঁচাতে পারেননি।
হাসনাইনের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে তার বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা শোকে ভেঙে পড়েন। বিশেষ করে তার দেড় বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে নিয়ে স্ত্রী এখন চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, হাসনাইন ছিলেন শান্ত স্বভাবের একজন তরুণ। তার এমন অকাল মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে স্থানীয়রা আরও সচেতনতা ও সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ সড়কগুলোতে গাছপালা ও বাঁকগুলো আরও নিরাপদ করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো অতিরিক্ত গতি, সড়কের দুরবস্থা এবং হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারানো। তাই চালকদের আরও সতর্কভাবে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, সামান্য অসাবধানতাও একটি তরুণ প্রাণ কেড়ে নিতে পারে। পরিবার ও সমাজের জন্য এ এক অপূরণীয় ক্ষতি।