
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পরও নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানায়নি সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হতে পারে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ।
সরকারি চাকরিজীবীদের অভিযোগ, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে এখন পর্যন্ত যত তথ্য সামনে এসেছে, তার সবই মূলত বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নির্ভর। সংশ্লিষ্ট কোনো মন্ত্রণালয় বা নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে সরাসরি কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আরও ধোঁয়াশাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন পে-স্কেলের অপেক্ষায় আছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে বর্তমান বেতন কাঠামো নিয়ে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। অনেক কর্মচারীর দাবি, বর্তমান আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে অতিরিক্ত কাজের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, পে-স্কেল নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ঘোষণা না থাকায় কর্মচারীদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, বাজেট ঘোষণার আগে বিষয়টি পরিষ্কার করা উচিত ছিল।
অন্যদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া বিভিন্ন আভাস অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো একবারে নয় বরং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকতে পারে। সম্ভাব্য পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বেসিক বেতন কার্যকর করা হতে পারে, এরপর পরবর্তী অর্থবছরে বাকি অংশ যুক্ত হতে পারে। পরবর্তীতে বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা ধাপে ধাপে চালু করার কথাও শোনা যাচ্ছে।
তবে কর্মচারী সংগঠনগুলো এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে। তাদের দাবি, পূর্বের মতোই প্রথম ধাপে শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী ধাপে অন্যান্য সুবিধা যুক্ত করা যেতে পারে। তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় এখন এককালীন সমন্বয় জরুরি।
আসন্ন বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে বিষয়টি এখন সর্বাধিক আলোচিত। আগামী ৭ জুন শুরু হতে যাওয়া বাজেট অধিবেশনের পর ১১ জুন অর্থমন্ত্রী বাজেট উপস্থাপন করবেন। সেদিনই পরিষ্কার হতে পারে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারের প্রকৃত পরিকল্পনা।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজেটে পে-স্কেল অন্তর্ভুক্ত না হলে কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, অন্তর্ভুক্ত করা হলে সেটি ধাপে ধাপে নাকি একযোগে বাস্তবায়ন হবে—সে বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনার অপেক্ষা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নবম পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে বাস্তবায়নের সময়, পদ্ধতি এবং কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। আগামী বাজেটই এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষ সিদ্ধান্ত জানাতে পারে।