
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৮ কেজি ভারতীয় গাঁজাসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম জসিম (২৪)। তিনি উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের থানাঘাট এলাকার কথিত মাদক ব্যবসায়ী সুজা মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভুরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন এবং এসআই জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে উপজেলার সীমান্তবর্তী পাথরডুবি ইউনিয়নের থানাঘাট এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে সুজন আলীর বাড়ির পেছনে কাঠখড়ির ঘরে রাখা একটি পরিত্যক্ত চালের ড্রাম তল্লাশি করা হয়। সেখান থেকে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৮ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে গাঁজার পাহারার দায়িত্বে থাকা জসিমকে আটক করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, আটক জসিমের কাছ থেকে গাঁজা বিক্রির নগদ ৮ হাজার টাকাও জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ভুরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ভুরুঙ্গামারীতে মাদক চোরাচালানের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।
তিনি বলেন, “উপজেলার তিন দিক ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে ঘেরা হওয়ায় এখানে মাদক পাচার ও ব্যবসার প্রবণতা বেশি। তাই মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু পুলিশের অভিযানেই মাদক নির্মূল সম্ভব নয়, স্থানীয় জনগণেরও সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। জনগণ সচেতন না হলে মাদক চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদক চোরাচালান ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক প্রবাহ ঠেকাতে প্রশাসনের এমন অভিযানকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ফল পেতে নিয়মিত নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা।