
বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেকেই নিয়মিত জিমে যাওয়ার সময় পান না। অথচ সুস্থ ও ফিট শরীরের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে পেটের মেদ, কোমরের অতিরিক্ত চর্বি এবং দুর্বল কোর পেশি অনেকের জন্যই একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা এমন কিছু সহজ ব্যায়ামের পরামর্শ দিচ্ছেন, যা ঘরে বসেই করা যায় এবং একসঙ্গে শরীরের একাধিক অংশে কার্যকরভাবে কাজ করে। তেমনই একটি জনপ্রিয় ব্যায়াম হলো ‘গ্লুট ব্রিজ’।
‘গ্লুট ব্রিজ’ মূলত একটি কোর ও নিতম্বকেন্দ্রিক ব্যায়াম, যা শরীরের নিচের অংশকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পেটের মেদ কমাতেও সহায়তা করে। এই ব্যায়ামটি নিয়মিত করলে কোমরের মাংসপেশি দৃঢ় হয়, নিতম্বের গঠন উন্নত হয় এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, এটি শরীরের সঠিক ভঙ্গি ধরে রাখতে এবং পিঠের ব্যথা কমাতেও সহায়ক ভূমিকা রাখে।
ব্যায়ামটি শুরু করার জন্য প্রথমে একটি যোগা ম্যাটের উপর পিঠ রেখে শুয়ে পড়তে হয়। এরপর হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের পাতা মাটিতে স্থির রাখতে হয়। এই অবস্থায় শরীরকে ধীরে ধীরে উপরে তুলতে হয় যাতে কাঁধ থেকে হাঁটু পর্যন্ত একটি সোজা রেখা তৈরি হয়। এই অবস্থায় কিছুক্ষণ থেকে আবার ধীরে ধীরে নিচে নামতে হয়। এটি নিয়মিতভাবে পুনরাবৃত্তি করতে হয়।
অনেক ক্ষেত্রে ব্যায়ামটিকে আরও কার্যকর করতে ফোম রোলার ব্যবহার করা হয়। এটি পিঠের উপরের অংশে স্থাপন করে ব্যায়ামের সময় শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়। রোলার না থাকলে তোয়ালে গুটিয়ে ব্যবহার করা যায়। এই পদ্ধতিতে শরীরের কোর পেশি আরও বেশি সক্রিয় হয়।
ব্যায়ামের সময় হাত ও পায়ের সমন্বিত নড়াচড়া যুক্ত করা হলে এর কার্যকারিতা আরও বেড়ে যায়। যেমন ডান হাত দিয়ে বাম হাঁটু স্পর্শ করা এবং একই সঙ্গে বিপরীত পা তুলতে হয়। এরপর দিক পরিবর্তন করে একইভাবে ব্যায়ামটি করতে হয়। এভাবে শরীরের দুই পাশ সমানভাবে কাজ করে, ফলে পেশির ভারসাম্য বজায় থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ১৫ বার করে ৪ সেট এই ব্যায়াম করলে শরীরের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ধীরে ধীরে দেখা যায়। তবে ফলাফল পেতে হলে নিয়মিততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিন করে বাদ দিলে এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
গ্লুট ব্রিজ ব্যায়ামের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি কোনো জিম সরঞ্জাম ছাড়াই ঘরে বসে করা যায়। ব্যস্ত জীবনে সময় বের করা কঠিন হলেও মাত্র ১০–১৫ মিনিট সময় দিলেই এটি করা সম্ভব। এতে শরীর সুস্থ থাকে, শক্তি বাড়ে এবং আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য গ্লুট ব্রিজ একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর ব্যায়াম। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এটি শরীরকে ফিট ও সুগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।