
নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থান এবং টহল জোরদারের কারণে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) শেষ পর্যন্ত তাদেরকে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে ওই ১৭ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালানো হয়। বিষয়টি জানার পরপরই বিজিবি ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে এবং সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি শুরু করে।
সূত্র জানায়, নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে নিয়ে আসে বিএসএফ। তবে বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। প্রায় ১৯ ঘণ্টা ধরে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকলেও শেষ পর্যন্ত পুশইনের চেষ্টা সফল হয়নি।
ঘটনার পর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার মতো কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনভর ওই ১৭ জন সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছিলেন। পরে গভীর রাতে বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে আবার ভারতীয় ভূখণ্ডের দিকে নিয়ে যায়। এ সময় কয়েকজনের কান্নার শব্দও শোনা যায় বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
কলমুডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব আলম জানান, রাত পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিলেন। পরে বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের সীমান্তের ওপারে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে অনেকে যেতে অনিচ্ছুক ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়। মানবিক বিবেচনায় শুরুতে তাদের শূন্যরেখার কাছাকাছি থাকতে দেওয়া হলেও পরে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে সরে যেতে বলা হয়।
তিনি আরও জানান, রাতের দিকে বিএসএফ সীমান্ত এলাকার লাইট বন্ধ করে দেয়। এরপর রাতের আঁধারে তারা পুশইনের চেষ্টা থেকে সরে গিয়ে ওই ব্যক্তিদের নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ওই সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।