
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে গৃহীত শোকপ্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক অনুলিপি ইতোমধ্যে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২ জুন) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশনে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়। অধিবেশনে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু প্রয়াত নেত্রীর রাজনৈতিক জীবন ও অবদান স্মরণ করেন এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
শোকপ্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, বেগম খালেদা জিয়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে দীর্ঘ অসুস্থতার পর মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। এছাড়া তার জন্ম, শিক্ষা জীবন এবং রাজনৈতিক উত্থান নিয়েও আলোচনা করা হয়।
স্পিকারের বক্তব্যে বলা হয়, তিনি ১৯৮১ সালে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন এবং পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। তিনি তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শোকপ্রস্তাবে আরও বলা হয়, খালেদা জিয়া দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
শোকপ্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর বিধানসভার সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং পরে অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা সচিবালয় থেকে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি সুমেন্দ্রনাথ দাস স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে শোকপ্রস্তাবের অনুলিপি ঢাকায় পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে ঢাকাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের মাধ্যমে এটি মরহুমার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শোকবার্তায় খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে তার প্রভাবকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।