
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আজ গোয়ার পণ্ডিত জওয়াহেরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। ম্যাচটিকে ঘিরে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের সুযোগ, অন্যদিকে ভারত মাঠে নামছে হারানো আধিপত্য ফিরে পাওয়ার প্রত্যয়ে।
ফাইনালের আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ দেখা গেলেও মাঠের লড়াই যে হবে তীব্র, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বাংলাদেশ দলের কোচ পিটার বাটলার এবং অধিনায়ক মারিয়া মান্দা যেমন আত্মবিশ্বাসী, তেমনি ভারতীয় কোচ ক্রিসপিন ছেত্রী ও মিডফিল্ডার সঙ্গীতা বাসফোরও প্রস্তুত নিজেদের সেরাটা দিতে।
সাফ নারী ফুটবলের শুরুতে টানা পাঁচবার শিরোপা জিতেছিল ভারত। তবে সাম্প্রতিক দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। এবার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে শিরোপার হ্যাটট্রিক করতে চায় মারিয়া মান্দাদের দল।
তবে ফাইনালের আগে একটি বিষয় বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ৩-০ গোলের পরাজয় এখনও স্মৃতিতে তাজা। যদিও কোচ পিটার বাটলারের মতে, ফাইনাল সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ম্যাচ এবং আগের ফলাফলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
বাটলার বলেন, দল ফাইনালে উঠেছে এবং খেলোয়াড়রা অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা ও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তার মতে, গ্রুপ পর্বের ফলাফল ম্যাচের প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি তুলে ধরেনি এবং ফাইনালে নতুন করে লড়াই শুরু হবে।
অন্যদিকে ভারতীয় কোচ ক্রিসপিন ছেত্রীও মনে করেন, ফাইনালকে আগের ম্যাচগুলোর সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে না। দুই দলই একে অপরের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত এবং সেই অনুযায়ী কৌশল সাজিয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে এখন পর্যন্ত নয়বার মুখোমুখি দেখা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের জয় দুটি, একটি ম্যাচ ড্র এবং ছয়টিতে জয় পেয়েছে ভারত। পরিসংখ্যান ভারতের পক্ষে থাকলেও সাম্প্রতিক সাফল্য বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।
সেমিফাইনালে দুর্দান্ত গোল করে আলোচনায় আসা ঋতুপর্ণা চাকমাকে নিয়েও ভারত বিশেষ পরিকল্পনা করেছে বলে জানিয়েছেন ক্রিসপিন ছেত্রী। যদিও সেই পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।
পিটার বাটলার জানিয়েছেন, ভারতের দলে এমন কয়েকজন খেলোয়াড় রয়েছেন যারা মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তাই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তার মতে, ফুটবল এমন একটি খেলা যেখানে সামান্য ভুলও বড় মূল্য দিতে বাধ্য করতে পারে।
গোয়ার গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া ম্যাচের গতি ও মানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন বাংলাদেশ কোচ। তারপরও দুই দলের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ফাইনালকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
এখন দেখার বিষয়, মারিয়া মান্দা ও ঋতুপর্ণা চাকমাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়ে টানা তৃতীয় শিরোপা জিততে পারে কি না, নাকি ভারত আবারও নিজেদের হারানো সিংহাসন ফিরে পায়।