
রাজধানী ঢাকায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মূল্যবান পরিত্যক্ত বাড়ি ও সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে মোট ১২৩টি গেজেটভুক্ত পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ি বর্তমানে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির আদেশে এসব সম্পত্তিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সরকারের অধীনে আনা হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, রমনা ও মতিঝিলের মতো অভিজাত এলাকায় থাকা এসব সম্পত্তির বড় অংশই বেদখল হয়ে পড়ে। বর্তমানে এসব স্থানের অনেক বাড়ির বাণিজ্যিক মূল্য হাজার কোটি টাকারও বেশি বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং কিছু সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব সম্পত্তি অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও আবাসিক বাড়িকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করে দোকান, রেস্টুরেন্ট ও অফিস ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের অর্থ আয় করা হচ্ছে।
সরেজমিন প্রতিবেদনে দেখা যায়, গুলশান, ধানমন্ডি ও অন্যান্য অভিজাত এলাকায় একাধিক সরকারি বাড়ি ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক দখলে রয়েছে। কোথাও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে, আবার কোথাও মামলা ও রিটের জটিলতা দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এসব দখল অব্যাহত আছে।
উদাহরণ হিসেবে গুলশানের কয়েকটি বাড়ি, ধানমন্ডির একাধিক প্লট এবং পুরানা পল্টন ও নিউ ইস্কাটনের সরকারি সম্পত্তি দখলে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব স্থানে আবাসিক ফ্ল্যাট, রেস্টুরেন্ট, দোকান ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে বলে জানা যায়।
পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ড (এপিএমবি) জানিয়েছে, অনেক সম্পত্তি আদালতের মামলা ও রিটের কারণে উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে শুধু হাইকোর্টেই ৪ হাজারের বেশি মামলা চলমান রয়েছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে মোট ৬ হাজার ৫৩৮টি পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৮টি অবমুক্ত করা হয়েছে, আর দেড় হাজারের বেশি বাড়ি ভাড়া বা লিজ দেওয়া হয়েছে। তবে বিপুল সংখ্যক সম্পত্তি এখনও আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের এই জটিলতা নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ, কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তি জরুরি। অন্যথায় রাষ্ট্রীয় সম্পদের বড় অংশই অনিয়ন্ত্রিত দখলে থেকে যাবে।