
বরগুনার আমতলী উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী। নিহতদের মধ্যে একজন দুলাভাই এবং অপরজন তার শ্যালক। একই ঘটনায় আরও এক কিশোর গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।
শুক্রবার (৫ জুন) রাত প্রায় ৮টার দিকে ঢাকা-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের আমতলীর শাখারিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতরা হলেন কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া গ্রামের বাসিন্দা মধু হাওলাদারের ছেলে মো. সজীব (২৫) এবং তার শ্যালক সাইফুল ইসলাম (১৬)। আহত আছাদুল ইসলাম (১৪) নিহত সাইফুলের ছোট ভাই। তাকে গুরুতর অবস্থায় পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সজীব হাওলাদার মোটরসাইকেলে করে তার দুই শ্যালককে নিয়ে পটুয়াখালী থেকে কলাপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। তারা শাখারিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা অতিক্রম করার কিছুক্ষণ পর কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা সম্রাট পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক সজীব হাওলাদারের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা দ্রুত আহত দুই কিশোরকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইফুল ইসলামের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে আছাদুল ইসলাম এখনও চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই বাসের চালক ও তার সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের শনাক্ত ও আটকের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ মোহাম্মদ হাচনাইন পারভেজ জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
একটি পরিবারের দুই সদস্যের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। স্থানীয়রাও এই দুর্ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং মহাসড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।