
বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। একসময় চট্টগ্রাম বিভাগে বিদেশগামী কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে শীর্ষ অবস্থানে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি চট্টগ্রাম। বরং জনশক্তি রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং চাঁদপুর।
জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে চাকরির উদ্দেশ্যে বিদেশে গেছেন ৮৭ হাজার ৫২৪ জন। একই সময়ে কুমিল্লা থেকে বিদেশে গেছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৩ জন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৩৮ জন। চাঁদপুর থেকেও বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৯২৪ জন।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কুমিল্লা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ধারাবাহিকভাবে চট্টগ্রামের চেয়ে অনেক বেশি কর্মী বিদেশে পাঠিয়েছে। এমনকি ২০২৪ সাল থেকে হিসাব করলে চাঁদপুরও চট্টগ্রামকে ছাড়িয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চট্টগ্রামের মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর বেশি নির্ভরশীল। বিশেষ করে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে চট্টগ্রামের প্রবাসী কমিউনিটি বড় হওয়ায় নতুন বিদেশগামীরাও এসব গন্তব্যকেই বেশি প্রাধান্য দেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এসব দেশে ভিসা কার্যক্রম সীমিত বা ধীরগতির হওয়ায় বিদেশযাত্রার হার কমে গেছে।
জনশক্তি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কর্মকর্তাদের মতে, চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে আঞ্চলিক নেটওয়ার্কভিত্তিক বিদেশযাত্রার প্রবণতা বেশি। অন্যদিকে দেশের অন্যান্য জেলার কর্মীরা বিভিন্ন দেশ ও পেশায় কাজ করতে আগ্রহী হওয়ায় তাদের বিদেশে যাওয়ার সুযোগও তুলনামূলক বেশি তৈরি হচ্ছে।
এছাড়া চট্টগ্রামে শিল্পকারখানা, বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ায় স্থানীয়ভাবে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অনেকেই বিদেশে যাওয়ার পরিবর্তে দেশে থেকেই কাজ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে চট্টগ্রাম আবারও জনশক্তি রপ্তানিতে শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারে।