প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 25, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 30, 2025 ইং
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: নিহত পরিবার পাবে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে সংঘটিত মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের জন্য বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুত করা কার্যপত্র অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই ক্ষতিপূরণ প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
প্রস্তাবিত প্যাকেজ অনুযায়ী, ১৮ বছরের নিচে নিহত শিশু ও শিক্ষার্থীদের পরিবারকে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক নিহতদের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় আহতদের জন্যও পৃথকভাবে ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা সহায়তার কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে।
কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়, অগ্নিদগ্ধ হওয়ার মাত্রা অনুযায়ী আহত শিশুদের জন্য সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। মাঝারি মাত্রার আহত শিশুদের জন্য ৩০ লাখ টাকা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব রয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম বা স্বল্পমেয়াদি আহতদের ক্ষেত্রে শিশুদের জন্য ১৫ লাখ টাকা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১০ লাখ টাকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন রয়েছে—এমন গুরুতর অগ্নিদগ্ধদের জন্য আলাদা চিকিৎসা পুনর্বাসন প্যাকেজের প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, যাদের প্রায় ১৫ বছর চিকিৎসা প্রয়োজন হবে, তাদের জন্য মোট ১৫ লাখ টাকার পুনর্বাসন প্যাকেজ দেওয়া হবে। যাদের ১০ বছর চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের জন্য ৯ লাখ টাকা এবং যাদের পাঁচ বছর চিকিৎসা নিতে হবে, তাদের জন্য এক লাখ টাকার পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নিহতদের পরিবারকে প্রদেয় ক্ষতিপূরণ প্যাকেজের অর্ধেক অর্থ এককালীন নগদ দেওয়া হবে। অবশিষ্ট অর্ধেক অর্থ পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র আকারে প্রদান করবে সরকার। আহত শিশুদের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের ৫০ শতাংশ সমান দুই কিস্তিতে দেওয়া হবে, যেখানে প্রথম কিস্তি পাওয়ার এক বছর পর দ্বিতীয় কিস্তি পরিশোধ করা হবে। বাকি ৫০ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে জমা থাকবে, যা শিশুর বয়স ২৫ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত উত্তোলন করা যাবে না।
প্রাপ্তবয়স্ক আহতদের ক্ষেত্রেও একই কাঠামো অনুসরণ করা হবে। ক্ষতিপূরণের অর্ধেক অর্থ দুই কিস্তিতে প্রদান করা হবে এবং বাকি অর্ধেক দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে রাখা হবে, যা পাঁচ বছরের আগে উত্তোলনযোগ্য হবে না।
সরকার জানিয়েছে, এই ক্ষতিপূরণ প্যাকেজের অর্থ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল ও জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল থেকে প্রদান করা হবে। সরকারের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের প্রণীত ক্ষতিপূরণ মডেল অনুসরণ করেই এই প্যাকেজ প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার গঠিত তদন্ত কমিশনও নিহত ও আহতদের পরিবারকে এই কাঠামোর আওতায় সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করেছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দ্যা ডেইলি কসমিক পোষ্ট । বাংলা