
দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থায়ী মিশন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের নিজ এলাকা থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সুরক্ষায় বসতি স্থাপনকারীদের আল-আকসা মসজিদে প্রবেশের ঘটনাগুলোকেও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে দেশটি।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আরব গ্রুপ এবং ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর সঙ্গে যৌথভাবে দেওয়া এক বক্তব্যে আমিরাত তাদের অবস্থান তুলে ধরে। সেখানে বলা হয়, পূর্ব জেরুজালেমসহ দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, সেগুলোর উদ্দেশ্য ওই অঞ্চলের ঐতিহাসিক, আইনি ও জনসংখ্যাগত চরিত্র পরিবর্তন করা।
আমিরাতের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। বসতি সম্প্রসারণ, ভূমি দখল এবং স্থানীয় জনগণকে উচ্ছেদের মতো কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জাতিসংঘে আমিরাতের স্থায়ী মিশন উল্লেখ করেছে, এসব পদক্ষেপ শুধু বর্তমান সংকটকে গভীর করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকেও বাধাগ্রস্ত করছে। তারা মনে করে, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে প্রচেষ্টা চলছে, বসতি সম্প্রসারণ ও উচ্ছেদের মতো কর্মকাণ্ড তা দুর্বল করে দিচ্ছে।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে কার্যকর পথ। কিন্তু দখলকৃত ভূখণ্ডে নতুন বসতি নির্মাণ এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের চেষ্টা সেই সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের প্রস্তাবনা এবং বিদ্যমান কূটনৈতিক কাঠামোর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবস্থান পরিবর্তনের যেকোনো উদ্যোগ বন্ধ করা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আমিরাতের এই অবস্থান ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষের মধ্যে অর্থবহ সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল পদক্ষেপ গ্রহণ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।