
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সৈয়দ মিঠু মিয়াকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম খান পাঠানের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ মিঠু মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মদন পৌর সদরের সরকারি কলেজ মোড় এলাকায়। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ আসে যে, চট্টগ্রামগামী বাসের যাত্রীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
সেখানে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন অভিযোগ শোনার সময় ছাত্রদল নেতা মিঠু মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাকে কিছুটা দূরে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। একপর্যায়ে তার সঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কনস্টেবল ফরিদুল ইসলাম ও আতাউর রহমান আহত হন। পরে তাদের মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত মিঠু মিয়াকে আটক করেছে। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, দুই পুলিশ সদস্যকে আহত করার অভিযোগে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, মদন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এস এইচ পিপুল জানিয়েছেন, সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ছাত্রদল কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে মিঠু মিয়াকে তার সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত সৈয়দ মিঠু মিয়া মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। তিনি মদন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।