
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে শফিকুল ইসলাম নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি একই গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় দিনমজুর বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ভুক্তভোগী শিশুটি বাড়ির উঠানে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী শফিকুল ইসলাম শিশুদের খাবার কিনে দেওয়ার কথা বলে দোকানের দিকে নিয়ে যান। পরে কৌশলে অন্য শিশুদের সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে ভুক্তভোগী শিশুটিকে একা নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফেরার পথে রাস্তার পাশের একটি শৌচাগারে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রাখতে শিশুটিকে কিছু টাকা দিয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
তবে শিশুটি বাড়ি ফিরে তার মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বললে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। যদিও অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের দাবি, শফিকুলের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তারা মানবিক কারণে বিভিন্নভাবে তাকে সহযোগিতা করে আসছিলেন। ফলে পরিচিত একজন মানুষের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে তারা হতবাক ও মর্মাহত।
ঘটনার পর শিশুটিকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, শিশুটির পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(২) ধারায় নথিভুক্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।