
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের কাছে অবস্থিত খান আল-আহমার এলাকায় ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ফিলিস্তিনিদের অধিকারবিষয়ক একটি বিশেষ কমিটি।
কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের এই উদ্যোগ ইসরায়েলের একটি পরিকল্পিত ও বেআইনি নীতির অংশ, যার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ওপর বৈষম্য ও নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন ঘটছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার পক্ষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ একাধিকবার ভোট দিয়েছে। তাই এসব এলাকায় জনসংখ্যার গঠন পরিবর্তন বা ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক স্থানচ্যুত করার যেকোনো উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অবস্থানের পরিপন্থী।
জাতিসংঘ কমিটির মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির ঐতিহাসিক ঘটনা ‘নাকবা’র ধারাবাহিকতাকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।
এদিকে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের তথাকথিত ‘ই-১’ এলাকার অংশ হিসেবে থাকা খান আল-আহমার জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে ইসরায়েলি সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
এই সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে খান আল-আহমার এলাকার বাসিন্দারা উচ্ছেদের আশঙ্কায় বসবাস করছেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার এ বিষয়ে সতর্ক করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং শান্তি প্রক্রিয়া নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।