
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তি (শুল্কসংক্রান্ত চুক্তি) পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। তার মতে, নতুন করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
গত মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যে অতিরিক্ত ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাবকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বাজেট পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক সময় তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে, যা বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে শিশুশ্রমসহ কিছু বাস্তব সমস্যা থাকলেও অনেক সময় তা পারিবারিক প্রেক্ষাপটে ঘটে থাকে। এসব সমস্যা সমাধানে সহায়তা তহবিলের পরিবর্তে শুল্ক আরোপ কার্যকর সমাধান নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ৬০টি দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল, যার মধ্যে মাত্র ৯টি দেশ চুক্তি করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে গড় ১৫ শতাংশ শুল্কের ওপর আরও অতিরিক্ত ১৯ শতাংশ শুল্ক যোগ হয়ে মোট ৩৪ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে। নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক যোগ হলে মোট শুল্ক দাঁড়াবে প্রায় ৪৪ শতাংশ, যা দেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।
সিপিডির এই ফেলো বলেন, এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত শুল্ক জোরপূর্বক শ্রম সমস্যার সমাধান করবে না, বরং উল্টোভাবে সমস্যাকে আরও জটিল করতে পারে।
মোস্তাফিজুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তি পুনরায় পর্যালোচনা এবং আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।