
কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল, তার স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল ছাড়াও চারজন ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রেসিডেন্টের স্ত্রী লিস কুয়েস্তা পেরাজা, কাস্ত্রো পরিবারের দুই সদস্য এবং কিউবার বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয়ও রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে কিউবা সরকারের ওপর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা হবে।
নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন কিউবাকে একটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। তার মতে, দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ রয়েছে।
বর্তমান কিউবান প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল ২০১৮ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি দেশটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তার নেতৃত্বে কিউবা অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে কিউবা। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে ‘জঘন্য’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি কিউবার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপের আরেকটি উদাহরণ এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির প্রচেষ্টা। তার দাবি, এমন পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কিউবার বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সামরিক কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি অতীতের একটি বিমান ভূপাতিত করার ঘটনার অভিযোগে সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার ফলে কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।