
সিরাজগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত তিনটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ৩৭৭ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকার এ আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেন কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক রওশন ইয়াজদানী।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জ শহরে আন্দোলন চলাকালে তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়।
একটি মামলায় নিহত হন জেলা যুবদলের সহসভাপতি সোহানুর রহমান রঞ্জু, আরেকটিতে বিএনপি কর্মী আব্দুল লতিফ এবং তৃতীয়টিতে সুমন শেখ। তিনজনের পরিবারই আলাদা আলাদা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে তদন্ত শেষে পুলিশ তিনটি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে। এতে মোট ৫৪৯ জনকে আসামি করা হয়, যাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর নাম রয়েছে।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি মামলায় মোট ৩৭৭ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। এর মধ্যে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা রয়েছেন।
প্রথম মামলায় (যুবদল নেতা সোহানুর রহমান রঞ্জু হত্যা) মোট ১৯৫ জন আসামির মধ্যে ৭০ জন জামিনে রয়েছেন এবং ১২৫ জন পলাতক।
দ্বিতীয় মামলায় (আব্দুল লতিফ হত্যা) ১৭৮ জন আসামির মধ্যে ৪৫ জন জামিনে এবং ১৩৩ জন পলাতক।
তৃতীয় মামলায় (সুমন শেখ হত্যা) ১৭৬ জন আসামির মধ্যে ৫৭ জন জামিনে এবং ১১৯ জন পলাতক।
সব মিলিয়ে তিনটি মামলায় মোট ৩৭৭ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
এ মামলায় আরও যেসব শীর্ষ নেতার নাম রয়েছে তাদের মধ্যে আছেন সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কে এম হোসেন আলী হাসান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ তালুকদার, সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত মুন্না, পৌর মেয়রসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয় এবং এরপরই এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
ঘটনাটি ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলন পরিস্থিতির সময় সংঘটিত হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের বড় মামলায় একাধিক উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তির নাম থাকা বিচার প্রক্রিয়াকে জটিল করতে পারে, তবে আদালত প্রমাণ ও তদন্তের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
বর্তমানে মামলাগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং পরবর্তী ধাপে আসামিদের গ্রেপ্তার ও শুনানির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।