
কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পালন করা হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন—তাঁর উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করতে এবং কোরবানি করতে। এ ইবাদত মুসলমানদের জন্য একদিকে যেমন তাকওয়ার প্রতীক, অন্যদিকে এটি আত্মত্যাগের এক অনন্য শিক্ষা।
মুহাম্মদ (সা.) কোরবানির গুরুত্ব সম্পর্কে বহু হাদিসে উৎসাহ প্রদান করেছেন। হজরত ফাতেমা (রা.)-কে তিনি কোরবানির সময় উপস্থিত থাকতে বলেছিলেন এবং এর ফজিলতের কথা উল্লেখ করেছিলেন, যা প্রমাণ করে এই ইবাদতের মর্যাদা কতটা উচ্চ।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কোরবানির জন্য নির্দিষ্ট কিছু গৃহপালিত পশু নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার-এর মতে, নিম্নোক্ত পশুগুলো দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ—
এই পশুগুলোকে ‘বাহিমাতুল আনআম’ বলা হয়, অর্থাৎ গৃহপালিত চতুষ্পদ প্রাণী, যেগুলো শরিয়তসম্মতভাবে কোরবানির জন্য নির্ধারিত।
অনেকেই মনে করেন, হরিণ বা বন্য প্রাণী দিয়ে কোরবানি করা যেতে পারে। কিন্তু শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি সঠিক নয়। যেমন—
এসব প্রাণী দিয়ে কোরবানি করা জায়েজ নয়। কারণ এগুলো শরিয়তে নির্ধারিত কোরবানির পশুর অন্তর্ভুক্ত নয়।
ইসলামে কোরবানি একটি নির্দিষ্ট নিয়ম ও বিধানের অধীন ইবাদত। তাই এখানে নিজের ইচ্ছামতো কোনো পশু নির্বাচন করা যাবে না। নির্ধারিত পশুর মাধ্যমেই এই ইবাদত আদায় করতে হবে। এর পেছনে রয়েছে শরিয়তের সুস্পষ্ট নির্দেশনা এবং নবীজির সুন্নাহ।
যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব, তাদের জন্য এটি পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেন—যার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, সে যেন ঈদগাহে না আসে। এই হাদিস কোরবানির গুরুত্ব এবং অবহেলার পরিণতি সম্পর্কে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেয়।
প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন এমন মুসলিম নর-নারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব, যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি কারো কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত এই সম্পদ থাকে, তবে তার ওপর কোরবানি করা আবশ্যক হয়ে যায়।
কোরবানি একটি মহান ইবাদত, যা শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আদায় করা হয়। তাই এ ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। নির্ধারিত পশুর মাধ্যমেই কোরবানি করতে হবে এবং অন্য কোনো পশু দিয়ে এই ইবাদত সহিহ হবে না।
সবশেষে বলা যায়, সঠিক জ্ঞান অর্জন করে এবং শরিয়তের নিয়ম মেনে কোরবানি আদায় করাই একজন মুসলিমের দায়িত্ব। এতে যেমন ইবাদত কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে, তেমনি আল্লাহর নৈকট্য লাভ করাও সহজ হয়।