
রাজধানী Dhaka-তে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মান সংস্থা South Asian Regional Standards Organization (সার্সো)-এর ১১তম গভর্নিং বোর্ড সভা। দুই দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ সভা বুধবার (৩ জুন) শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) শেষ হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সার্সোর গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারপার্সন এবং Bangladesh Standards and Testing Institution (বিএসটিআই)-এর মহাপরিচালক (সচিব) Kazi Imdadul Haque। তার নেতৃত্বে এই সভায় দক্ষিণ এশিয়ার মান উন্নয়ন ও বাণিজ্য সহজীকরণে গুরুত্বপূর্ণ নানা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় অবস্থিত বিএসটিআই প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা সরাসরি ও ভার্চুয়াল—উভয় মাধ্যমেই অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ছিল Bangladesh, India, Pakistan, Sri Lanka, Nepal, Bhutan এবং Maldives।
সভায় ২০২৫ সালের সার্সোর কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে টেকনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট বোর্ড (টিএমবি)-এর প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়, যা ভবিষ্যৎ কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া ২০২৬ সালের জন্য একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মানসম্মত পণ্য উৎপাদন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা হবে। সভায় আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মান সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়েও আলোচনা হয়।
নতুন সেক্টরাল টেকনিক্যাল কমিটি (এসটিসি) গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, যা বিভিন্ন খাতে মান নির্ধারণ ও মান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সমাপনী বক্তব্যে কাজী ইমদাদুল হক বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত বাধা দূর করা এবং পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এ লক্ষ্য অর্জনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও যৌথ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সার্সোর এই ধরনের সভা আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষিণ এশিয়ার পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে মান নির্ধারণ ও মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সমন্বিত নীতি গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে।
দুই দিনব্যাপী আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর ১১তম গভর্নিং বোর্ড সভার আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন গৃহীত হয় এবং এর মধ্য দিয়েই সভার কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
সব মিলিয়ে, ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই সভা দক্ষিণ এশিয়ার মান উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।