
ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার ভাইকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল হক এ আদেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, এনসিপি নেতা আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করেন।
এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা রায়পুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব আলম আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে আদালত রিমান্ড না মঞ্জুর করে প্রধান আসামি আনোয়ার হোসেনকে এক দিনের জন্য জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
অন্যদিকে, একই মামলায় আসামি তার ভাই ও এনসিপি কর্মী ইমাম হোসেনকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে জামিন প্রদান করা হয়েছে।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আব্দুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ ও জামিন সংক্রান্ত এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ৩০ মে আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ৩১ মে রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তি রায়পুর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আনোয়ারসহ তার তিন ভাইয়ের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও চারজনকে আসামি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ফেসবুকে তিনি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রচার করেন। পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম কাগজে লিখে তা পায়ের নিচে রাখার ছবি প্রচার করেন বলেও অভিযোগ আনা হয়, যা এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৩০ মে রাতে অভিযুক্তের গ্রামে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ফেসবুক পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় যুবদল নেতা রুহুল আমিনসহ কয়েকজনের ওপর হামলা করা হয়। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ওই ঘটনায় বাদীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্তকে আটক করে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
বর্তমানে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।