
রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পান এবং তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর সার্কিট হাউজ রোডে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে এই আলোচনা সভা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও পরবর্তী রাষ্ট্র গঠনে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন একটি আত্মমর্যাদাশীল ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ দেখতে চায়। তার মতে, আধিপত্যবাদের বাইরে গিয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সময় এসেছে এবং জনগণ সেই দিকেই এগিয়ে যেতে চায়।
মির্জা ফখরুল আরও মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে তারা জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন দেখতে পান। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও উন্নত ও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষকে সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। তার মতে, সমন্বিত প্রচেষ্টাই দেশের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।
বক্তারা এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে অগ্রসর হয়। পাশাপাশি গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশ ও জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা জিয়াউর রহমানের জীবন, কর্ম ও রাজনৈতিক অবদানভিত্তিক একটি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। সেখানে তার রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দিক এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর সংবাদ প্রতিবেদন, আলোকচিত্র ও দলিল উপস্থাপন করা হয়।
আয়োজকরা মনে করেন, এ ধরনের আয়োজন ইতিহাসচর্চা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।