
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ জব্দ করা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ নিয়ে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। প্রায় সাড়ে ১৭ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হলেও আদালতে তা মাত্র দেড় কেজি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
গণমাধ্যম অনুসন্ধান অনুযায়ী, এই ঘটনাটি সামনে আসে যখন আসামিরা গত বছরের ৫ নভেম্বর হাইকোর্ট-এ জামিনের আবেদন করেন। সেখানে জমা দেওয়া নথিতে ১৭ কেজি ৫০০ গ্রাম স্বর্ণকে দেখানো হয় মাত্র ১ কেজি ৫০০ গ্রাম হিসেবে।
আদালত সেই তথ্যের ভিত্তিতে শুনানি শেষে আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে ঘটনার পাঁচ দিন পর বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে রাষ্ট্রপক্ষ নথিপত্র পুনরায় যাচাই করে। তখনই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির তথ্য।
তদন্তে দেখা যায়, স্বর্ণের পরিমাণ ১৭ কেজি থেকে ‘১’ এবং ‘৭’ সংখ্যার মধ্যে ‘৭’ সংখ্যাটি কৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে, ফলে পুরো পরিমাণ কমে গিয়ে ১.৫ কেজিতে নেমে আসে। এই জালিয়াতির মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর হাইকোর্ট দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। আসামিদের দেওয়া জামিন স্থগিত করা হয় এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এরই মধ্যে আসামিরা কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে যান, যা পুরো বিষয়টিকে আরও জটিল করে তোলে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ জব্দ করা হয়। শারজাহ থেকে আগত দুই যাত্রীর কাছ থেকে ১২০টি স্বর্ণের বার এবং চারটি স্বর্ণের পেস্টের চাকা উদ্ধার করে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
জব্দ করা স্বর্ণের তৎকালীন আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল প্রায় ২১ কোটি টাকা, যা দেশের সাম্প্রতিক সময়ের বড় স্বর্ণ জব্দের ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী সাদিয়া ইয়াসমিন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, মামলা গ্রহণের সময় নথিতে স্বর্ণের পরিমাণ ১ কেজি ৫০০ গ্রামই উল্লেখ ছিল এবং কোনো ধরনের জালিয়াতি হয়নি।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের মতে, এটি একটি পরিকল্পিত জালিয়াতি, যার মাধ্যমে আসামিদের জামিন নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের নথিতে এ ধরনের জালিয়াতি বিচার ব্যবস্থার জন্য গুরুতর হুমকি। এটি শুধু আইনি প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং অপরাধীদের আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
সব মিলিয়ে, সিলেট বিমানবন্দরের এই স্বর্ণ জব্দ এবং পরবর্তীতে আদালতে তার পরিমাণ কম দেখানোর ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।