
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন চাকরিপ্রার্থী ও স্থানীয় গ্রামবাসী। সোমবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের একটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন সাগর-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বাণিজ্য ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে আসছিলেন ভুক্তভোগীরা। মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ঝাড়ু হাতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন এবং এক পর্যায়ে অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে খানমরিচ ইউনিয়নের চন্ডিপুর বাজার এলাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শাখা এমপিওভুক্ত হয়। তবে সেই সময় থেকেই বিভিন্ন নিয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে।
সর্বশেষ অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি কলেজে নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে চারজন চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষার আগেই অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন কয়েকজন প্রার্থীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেন চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এক প্রার্থীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা এবং আরেকজনের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত অন্য একজন প্রার্থীকে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
শুধু সাম্প্রতিক নিয়োগ নয়, অতীতেও বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির সময় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন গ্রামবাসীরা। তাদের দাবি, স্কুল শাখার এমপিওভুক্তির সময় শিক্ষকদের কাছ থেকেও বড় অংকের অর্থ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও টাকা নেওয়া হলেও চাকরি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরত চেয়েও ব্যর্থ হওয়ায় অবশেষে ভুক্তভোগীরা বিক্ষোভে নামেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রামবাসীরা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার কেন্দ্র হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে দুর্নীতি ও অনিয়ম চলছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন সাগর সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আমি কোনো ঘুষ নেইনি, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করে না, বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।