
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে তাঁর নামাজে জানাজার দিন বুধবার সারা দেশে এক দিনের সাধারণ ছুটি থাকবে।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং আগামীকাল বুধবার জানাজার দিনে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি শোক পালনের সব কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।
সভায় বুধবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং একই সঙ্গে বুধবার এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণার অনুমোদন দেওয়া হয়। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে একটি আনুষ্ঠানিক শোক প্রস্তাবও সভায় গৃহীত হয়, যা পাঠ করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান।
রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালে দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।
এছাড়া বুধবার দেশের সব মসজিদে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়গুলোতেও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে শোক বই খোলার সিদ্ধান্তও সভায় গৃহীত হয়েছে।
উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নিরাপত্তাসহ সার্বিক সহযোগিতার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি জানান, বুধবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁকে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভায় জানান, জানাজা ও দাফনসহ সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রমে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।