
সৌদি আরবে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করেছে কর্তৃপক্ষ। এক সপ্তাহব্যাপী এই অভিযানে হাজারো মানুষকে গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব-এর বিভিন্ন অঞ্চলে ২৩ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত যৌথভাবে অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। এ সময় মোট ১৪ হাজার ৮৫৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয় এবং আরও ১১ হাজার ৩০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই তথ্য প্রকাশ করেছে গালফ নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযানটি মূলত আবাসন আইন, শ্রম আইন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ হাজার ২৪৪ জন আবাসন আইন লঙ্ঘনকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। এছাড়া ৩ হাজার ৫৪৩ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে এবং ১ হাজার ৫১৩ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের কারণে গ্রেপ্তার হন। এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আরও ১ হাজার ৩৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ ইয়েমেনি এবং ৫৪ শতাংশ ইথিওপিয়ার নাগরিক বলে জানা গেছে। সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী নজরদারি আরও জোরদার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন ও শ্রম ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর নীতি অনুসরণ করে আসছে। দেশটির ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শ্রমবাজারকে আরও নিয়মতান্ত্রিক ও দক্ষ করে তোলার চেষ্টা চলছে।
এই অভিযানের ফলে অবৈধভাবে অবস্থান করা বিদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈধ ভিসা ছাড়া কাজ করা এবং সীমান্ত অতিক্রম করে প্রবেশের প্রবণতা কমাতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মানবাধিকার ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর পরিমাণ ও কঠোরতা অনেক বেড়েছে। এতে শ্রমবাজারে শৃঙ্খলা ফিরলেও অনেক অভিবাসী শ্রমিকের জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইন লঙ্ঘনকারী যে কেউ অবস্থান করুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে একইভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সব মিলিয়ে, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সৌদি আরবের এই অভিযান দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শ্রমনীতি শক্তিশালী করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।