
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এ নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস। ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক নবীনবরণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ২১তম ব্যাচের একাডেমিক কার্যক্রম।
রবিবার আয়োজিত এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু), ছাত্রদল এবং ছাত্র অধিকার পরিষদ নবীনদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল, চকলেট, কলম এবং বাস রুটের কপি বিতরণ করা হয়, যা নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য দিনটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বিভাগেই আলাদাভাবে নবীনবরণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম দিনেই অনেক শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় আইডি কার্ড, যা নতুন জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিভাগভিত্তিক এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের নিজেদের বিভাগকে দ্রুত আপন করে নিতে সহায়তা করেছে।
নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল আনন্দ, উচ্ছ্বাস এবং কিছুটা নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার কৌতূহল। তবে সিনিয়রদের আন্তরিকতা এবং শিক্ষকদের সহযোগিতায় সেই শঙ্কা দ্রুত কেটে গেছে বলে জানায় তারা। অনেক শিক্ষার্থী বলেন, প্রথম দিনেই এমন আন্তরিক অভ্যর্থনা পেয়ে তারা মুগ্ধ হয়েছেন এবং নিজেদের একটি নতুন পরিবারের অংশ হিসেবে অনুভব করছেন।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাফিয়া রায়হানা রিশা তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। সিনিয়রদের স্নেহ ও শিক্ষকদের আন্তরিকতায় তিনি অভিভূত। একইভাবে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন জানান, বিভাগভিত্তিক আয়োজন তাদের নিজেদের বিভাগকে আরও কাছের মনে করতে সাহায্য করেছে।
অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেরিন সুলতানা বলেন, প্রথমে কিছুটা নার্ভাস লাগলেও নবীনবরণ অনুষ্ঠানের উষ্ণতায় সেই ভয় দূর হয়ে গেছে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের রাফিদা হাসানও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, প্রথম দিনেই এমন আয়োজন তাকে বিস্মিত করেছে এবং সিনিয়রদের সহযোগিতা তাকে নতুন পরিবেশে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী সন্ধ্যা মনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনটি ছিল জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। নতুন মানুষ, নতুন পরিবেশ—সব মিলিয়ে এটি ছিল এক ভিন্ন অনুভূতি।
ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও নবীনদের স্বাগত জানাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি একে এম রাকিব বলেন, নবীনদের আন্তরিকভাবে বরণ করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, নবীন শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব এবং তাদের সুশিক্ষা ও নৈতিকতায় গড়ে ওঠা জরুরি।
জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম জানান, নবীনদের জন্য ছোট পরিসরে আয়োজন করা হলেও ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ৩ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথমবর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে। নতুন শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে ক্যাম্পাসে ফিরেছে নতুন প্রাণ, যা পুরো শিক্ষাঙ্গনকে করে তুলেছে আরও প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল।