
মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে আবারও কিছু বিষয় সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়েছে। ইতিহাসনির্ভর কয়েকটি অংশে সংশোধনের পাশাপাশি কিছু লেখা ও উপস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অষ্টম শ্রেণির সাহিত্য কণিকা বই থেকে একটি নির্দিষ্ট নিবন্ধ বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসংক্রান্ত অংশে শব্দ ও বর্ণনার ধরনে হালনাগাদ করা হয়েছে।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানিয়েছেন, পাঠ্যবইয়ে বড় কোনো রদবদল নয়, বরং সীমিত পরিসরে কিছু বিষয় সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের কিছু বইয়েও নির্বাচিত অংশে পরিবর্তন এসেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে সময় খুব কম থাকলেও মাধ্যমিক স্তরের সব পাঠ্যবই এখনো পুরোপুরি ছাপা ও সরবরাহ শেষ হয়নি। এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বই ছাপা ও বাঁধাই সম্পন্ন হলেও মাঠপর্যায়ে সরবরাহ পৌঁছেছে প্রায় ৬১ শতাংশ। অর্থাৎ উল্লেখযোগ্য অংশের বই এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো বাকি।
শ্রেণিভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, ষষ্ঠ ও নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপা ও সরবরাহ তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকলেও সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের ক্ষেত্রে সরবরাহের হার কম। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে মাধ্যমিক স্তরের অনেক শিক্ষার্থী সব পাঠ্যবই একসঙ্গে নাও পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
তবে প্রাথমিক স্তরের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এই স্তরের সব পাঠ্যবই শতভাগ ছাপা ও মাঠপর্যায়ে সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি। সরকার ২০১০ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করে আসছে এবং দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক্-প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে প্রায় ৩০ কোটি পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে। এর বড় অংশই মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত। এনসিটিবির কর্মকর্তা ও মুদ্রণ সংশ্লিষ্টদের মতে, ছাপা ও সরবরাহের বর্তমান গতি বিবেচনায় জানুয়ারির শুরুতেই সব বই পৌঁছানো চ্যালেঞ্জের হতে পারে।
এ বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার জানিয়েছেন, শিক্ষা কার্যক্রম জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে শুরু হবে এবং তার আগেই প্রায় শতভাগ নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে।