
বাংলাদেশে অনলাইন প্রতারণার নতুন কৌশল হিসেবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা বাড়ছে। সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু-এর ছবি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ-এ প্রতারণার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু নিজেই এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, একটি প্রতারক চক্র বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তার নাম ও ছবি দিয়ে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলেছে। এই অ্যাকাউন্ট থেকে তার পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে মেসেজ পাঠিয়ে জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে টাকা চাওয়া হচ্ছে।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, প্রতারকরা বিশেষভাবে বাংলাদেশি নম্বর ব্যবহার করে মানুষের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করছে। তারা দাবি করছে, তিনি কোনো সমস্যায় আছেন এবং দ্রুত আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। এ ধরনের আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য।
শিপলু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন না এবং তার কোনো বাংলাদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরও নেই। তাই এ ধরনের কোনো নম্বর থেকে যদি তার পরিচয়ে কারো কাছে টাকা চাওয়া হয়, তবে সেটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং প্রতারণার অংশ।
তিনি সকলকে সতর্ক করে বলেন, “এ ধরনের কোনো মেসেজ পেলে কখনোই টাকা পাঠাবেন না। বরং সরাসরি আমার পরিচিত আসল নম্বরে যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করুন।” একই সঙ্গে তিনি সন্দেহজনক নম্বরগুলো ব্লক ও রিপোর্ট করার আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারণা এখন একটি সাধারণ প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। প্রতারকরা সাধারণত পরিচিত বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের আস্থা অর্জন করে। এতে অনেক সময় ভুক্তভোগীরা বিষয়টি যাচাই না করেই আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়েন।
এই ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। যেমন—অপরিচিত বা সন্দেহজনক নম্বর থেকে আসা বার্তায় বিশ্বাস না করা, কোনো আর্থিক লেনদেনের আগে পরিচয় নিশ্চিত করা এবং জরুরি অর্থ চাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এ ধরনের সাইবার প্রতারণা ঠেকাতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। তবে সচেতনতার অভাব থাকলে প্রতারণার ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই প্রতারণার নতুন নতুন কৌশল সামনে আসছে। ফলে শুধু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নয়, ব্যবহারকারীদের সচেতনতা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সবশেষে, কোনো সন্দেহজনক বার্তা বা অ্যাকাউন্ট দেখলে তা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করা এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।