
ভারতের রাজধানী দিল্লির দক্ষিণাঞ্চলের মালভিয়া নগরের হাউজ রানি এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) ভোরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা ঘিরে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের আটজন সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার সময় হোটেলটিতে প্রায় ৪০ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুন ও ঘন ধোঁয়ার কারণে অনেকেই বের হতে পারেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘ফ্লাওরিশ স্টে’ নামের ওই হোটেলটি দক্ষিণ দিল্লির একটি নামী হাসপাতালের কাছে অবস্থিত হওয়ায় অনেক রোগীর স্বজন সেখানে অবস্থান করতেন। একই কারণে গুরুগ্রামের বাসিন্দা বিবেক আগরওয়াল ও তার পরিবারও সেখানে ছিলেন।
বিবেক আগরওয়াল একজন চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট ছিলেন। তার স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং মা-সহ পরিবারের মোট পাঁচ সদস্য আগুনে নিহত হন। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ এক আত্মীয়কে দেখতে রাজস্থান থেকে আসা আরও তিনজনও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান, ফলে একই পরিবারের মোট আটজনের মৃত্যু ঘটে।
পরিবারের এক আত্মীয় জানান, আগুন লাগার সময় বিবেক আগরওয়াল ফোনে সাহায্য চেয়েছিলেন এবং আটকা পড়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে ধোঁয়া ও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কেউই তাদের উদ্ধার করতে পারেননি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হোটেলের কাচে ঘেরা জানালা এবং সেন্সরচালিত গেট ঠিকমতো কাজ না করায় অনেকে বের হতে ব্যর্থ হন। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো ভবনটি আগুনে গ্রাস হয়ে যায়।
এ ঘটনায় স্থানীয় দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালায়। নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে আগরওয়াল পরিবারের গ্রাম ও শহরের বাড়িতে নেমে এসেছে গভীর শূন্যতা, যেখানে একসময় ছিল জীবনের কোলাহল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হোটেল নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং বিষয়টি নিয়ে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।