
দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ চার কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগ করা কমিশনাররা হলেন মু. মোহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ এবং মো. সাইফুদ্দিন। তাদের পদত্যাগের মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট চার বছরের মেয়াদে বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই বছরের বিভিন্ন সময়ে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান মু. মোহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর ও ফারজানা লালারুখ। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সাইফুদ্দিন।
সম্প্রতি দেশের পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি পুনর্গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে জানান, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিএসইসিকে পুনর্গঠন করা হবে। তার ওই ঘোষণার পর থেকেই সংস্থাটির ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগের ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাজার সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হতে পারে।
বিএসইসির বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ ছিল বলে জানা যায়। সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে কর্মবিরতি ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিলেন। একই সঙ্গে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা যায়। তারা বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
চেয়ারম্যান ও চার কমিশনারের পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক বিনিয়োগকারী এ ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীলতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।
এখন বিএসইসি পুনর্গঠনের মাধ্যমে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের। নতুন নেতৃত্ব দেশের পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেটিই হবে আগামী দিনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।