
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর আলামপুর বুচিপুর গ্রামে ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক প্রবাসী ছাত্রলীগ কর্মীকে খুঁজতে গিয়ে তিন যুবক এলাকাবাসীর সন্দেহের মুখে পড়েন এবং পরে তাদের ডাকাত সন্দেহে গণধোলাই দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় প্রবাসী আব্দুল হামিদের ছেলে কামরুল হাসান ও স্থানীয় এক যুবদল নেতার পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল। সম্প্রতি ওই বিরোধের জেরে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২ জুন রাতে কিছু ব্যক্তি কামরুল হাসানের বাড়িতে গেলে সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ ও শোরগোলের ঘটনা ঘটে। এরপর গ্রামবাসী ছুটে এসে সন্দেহভাজনদের ধাওয়া করে। এ সময় তিন যুবককে আটক করে গণধোলাই দেওয়া হয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনার পর জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে দাগনভূঞা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা ডাকাতির আলামত না পাওয়ায় মুচলেকা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
দাগনভূঞা থানার ওসি জানান, প্রাথমিক তদন্তে ডাকাতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই আইনগত জটিলতা না থাকায় মুচলেকা নিয়ে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ না থাকায় বিষয়টি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।
স্থানীয় এক পক্ষ দাবি করেছে, ঘটনাটি মূলত পূর্ব শত্রুতার জেরে ঘটেছে, যেখানে ভুল বোঝাবুঝি থেকে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে উভয় পক্ষ আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করে নেয়।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।