
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক করতে সরকার অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক জটিলতা কমানো, ডিজিটালাইজেশন জোরদার এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে কাজ করছে। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিতে একটি সীমিত গোষ্ঠীর আধিপত্য এবং অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকায় ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার ডিরেগুলেশন বা অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তার মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এসব বিধিনিষেধ সাধারণ উদ্যোক্তাদের ওপর প্রযোজ্য হলেও প্রভাবশালী গোষ্ঠী সেগুলোর বাইরে থেকে যায়, যা সমান সুযোগের পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে দেশের অর্থনীতি অনেকাংশে ‘পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনীতি’তে পরিণত হয়েছিল, যেখানে নিয়মনীতি বৃদ্ধি পেলেও এর সুফল সবার কাছে পৌঁছায়নি। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সকল নাগরিকের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং উন্নয়নের সুফল সমাজের সব স্তরে পৌঁছে দেওয়া।
গ্রামীণ অর্থনীতির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের কামার, কুমার, তাঁতি ও কারুশিল্পীরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম কাজ করলেও নীতি সহায়তা ও বাজার সুবিধার অভাবে তাদের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। এ সমস্যা সমাধানে রাজধানীর কাছে প্রায় ১৬০ একর জমির ওপর একটি ‘ক্রিয়েটিভ ডিস্ট্রিক্ট’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ ঋণ, কাঁচামাল সহায়তা, ডিজাইন উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনের সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশীয় কারুশিল্প ও সৃজনশীল পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ মডেলের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত পণ্য উৎপাদন ও বিপণন করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হবে। একই সঙ্গে একক অনলাইন উইন্ডোর মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের সব ধরনের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ডিরেগুলেশন, ডিজিটালাইজেশন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির মাধ্যমে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে, যেখানে সবাই সমানভাবে অংশ নিতে পারবে এবং উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারবে।