
দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার সুপ্রতিষ্ঠিত করতে স্বাধীন সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই—এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তারা এ কথা বলেন।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তন-এ রবিবার (৩ মে) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব এবং সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে আয়োজন করে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নূরুল কবীর। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।
আলোচনায় অংশ নেন মতিউর রহমান চৌধুরী, মাহফুজ আনাম, এ এম এম বাহাউদ্দিন, হাসান হাফিজ, শাহেদ মুহাম্মদ আলী, শামসুল হক জাহিদ, রিয়াজ আহমেদ, সাজ্জাদ শরিফসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীন সাংবাদিকতা ছাড়া সঠিক তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, যা গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে। তারা আরও বলেন, সংবাদমাধ্যম শুধু তথ্য সরবরাহই করে না, বরং সমাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দ্রুত বিস্তার এবং প্রচলিত গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর কারণে জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারণ অনেক সময় জটিল হয়ে পড়ে।
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার ও সাংবাদিকদের মধ্যে সংলাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
মাহফুজ আনাম বলেন, যেসব দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা শক্তিশালী, সেসব দেশেই গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সাংবাদিকদের নিজেদের দায়িত্বশীলতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে মতিউর রহমান চৌধুরী অপতথ্য ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে Facebook ও YouTube-এর মাধ্যমে যাচাইহীন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজে বিভাজন তৈরি করছে।
হাসান হাফিজ বলেন, আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অবস্থান কিছুটা অবনতি হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
এছাড়া শামসুল হক জাহিদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সীমাহীন স্বাধীনতার কারণে এর অপব্যবহারও বাড়ছে। তাই এ খাতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা একমত হন যে, স্বাধীন, দায়িত্বশীল এবং জবাবদিহিমূলক সাংবাদিকতা ছাড়া একটি গণতান্ত্রিক সমাজের বিকাশ সম্ভব নয়। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা ও অপতথ্য মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।