
মে মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। রবিবার (৩ মে) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
বিইআরসি জানায়, চলতি মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আগের মতোই ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ভোক্তাদের জন্য এই মাসে গ্যাসের দামে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
এ ছাড়া অটোগ্যাসের ক্ষেত্রেও সামান্য সমন্বয় করা হয়েছে। মে মাসে ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে মূসকসহ ২ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিইআরসি আরও জানিয়েছে, নতুন এই মূল্য নির্ধারণ কার্যকর হবে রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে। ফলে নির্ধারিত সময়ের পর থেকে বাজারে এলপিজি ও অটোগ্যাসের নতুন দাম অনুযায়ী বিক্রি চলবে।
এর আগে গত মাসে এলপিজি গ্যাসের দামে একাধিকবার পরিবর্তন আনা হয়। গত ২ এপ্রিল ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর ১৯ এপ্রিল আরও এক দফা সমন্বয়ের মাধ্যমে দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকায় উন্নীত করা হয়।
বারবার মূল্য সমন্বয়ের কারণে ভোক্তাদের মধ্যে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হলেও মে মাসে দাম অপরিবর্তিত থাকায় আপাতত স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি ও জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি ব্যয়—এই সবকিছুই স্থানীয় বাজারে গ্যাসের দামের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই মাসভিত্তিক এই মূল্য সমন্বয় করা হয়ে থাকে।
বাংলাদেশে রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাসের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে পাইপলাইনের গ্যাস সংকটের কারণে এলপিজি এখন প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে। ফলে দাম পরিবর্তন সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে অটোগ্যাসের ব্যবহারও পরিবহন খাতে ধীরে ধীরে বাড়ছে। তুলনামূলকভাবে কম খরচে জ্বালানি হিসেবে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এর দামেও পড়ছে।
ভোক্তারা মনে করছেন, নিয়মিত মূল্য সমন্বয়ের পরিবর্তে স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি মূল্যনীতি গ্রহণ করা হলে বাজারে স্বস্তি আসবে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়বে।
বর্তমানে সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি প্রতি মাসেই আন্তর্জাতিক বাজার ও আমদানি ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে থাকে। এর মাধ্যমে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়।
সব মিলিয়ে মে মাসে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত থাকায় সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে, যদিও অটোগ্যাসে সামান্য বৃদ্ধি হয়েছে।