নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পূর্ব হাজীপুর এলাকায় টিউবওয়েল বসানোর কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক স্কুল দপ্তরির মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বুধবার (৩ জুন) সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি হলেন আহমদ আলী (৪০)। তিনি হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি পূর্ব হাজীপুর এলাকার মৃত আমানুল্লাহ মেম্বারের ছেলে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন জুয়েল (২৮) ও জামান (৪৭)। তাদের মধ্যে জুয়েলকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে এবং জামানকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে পূর্ব হাজীপুর কবরস্থান রোড এলাকায় একটি বাড়িতে টিউবওয়েল বসানোর কাজ চলছিল। কাজটি চলাকালীন সময় লোহার একটি দীর্ঘ পাইপ ওপরে তোলার চেষ্টা করা হয়। তখন অসাবধানতাবশত সেটি ওপর দিয়ে যাওয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসে।
এতে মুহূর্তের মধ্যেই লোহার পাইপে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় এবং কাজের সঙ্গে যুক্ত আহমদ আলীসহ তিনজন ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে আহমদ আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের অবস্থার অবনতি রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, আহমদ আলী শুধু বিদ্যালয়ের দপ্তরি হিসেবেই নয়, এলাকায় বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার হঠাৎ মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, টিউবওয়েল বসানোর সময় লোহার পাইপ বিদ্যুতের তারের সঙ্গে লেগে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে একজন নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনা এলাকায় আবারও নির্মাণ ও দৈনন্দিন কাজের সময় বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা মানার গুরুত্বকে সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উঁচু স্থানে কাজ বা লোহার সরঞ্জাম ব্যবহারের সময় বিদ্যুৎ লাইনের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন না থাকলে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে।