
২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ঘোষিত ফলাফল নিয়ে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কের পর অবশেষে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার প্রকাশিত নতুন প্রজ্ঞাপনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ—আজীবন সম্মাননা এবং সেরা চিত্রনাট্য—পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে সংশোধন করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন মহল থেকে কিছু বিভাগের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগ ছিল, জুরি বোর্ডের সুপারিশ ঘোষিত ফলাফলে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। বিশেষ করে আজীবন সম্মাননা এবং সেরা চিত্রনাট্য বিভাগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এ পরিস্থিতিতে বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের মার্চ মাসে জুরি বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের মতামত সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে সেই মতামত ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা পর্যালোচনা করে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।
সংশোধিত ঘোষণায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে আজীবন সম্মাননা বিভাগে। জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক আব্দুল লতিফ বাচ্চু-কে আজীবন সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হয়েছিল।
তবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের নীতিমালা অনুযায়ী, আজীবন সম্মাননা সাধারণত জীবিত ব্যক্তিদের প্রদান করা হয়। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগেই উভয়ের মৃত্যু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। নীতিমালার সঙ্গে ঘোষণার অসঙ্গতি নিয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন প্রশ্ন তোলেন।
সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তারেক মাসুদ ও আব্দুল লতিফ বাচ্চুকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হবে। অন্যদিকে আজীবন সম্মাননা যৌথভাবে পাচ্ছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম এবং চলচ্চিত্র সম্পাদক ফজলে হক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জুরি বোর্ডের প্রাথমিক সুপারিশেও শবনমের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনকে জুরি বোর্ডের মূল সুপারিশের সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সেরা চিত্রনাট্য বিভাগেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে ‘রক্তজবা’ চলচ্চিত্রের জন্য নিয়ামুল মুক্তাকে সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে যে তিনি প্রকৃতপক্ষে ওই চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচয়িতা নন।
বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও পর্যালোচনার পর সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে ‘রক্তজবা’ চলচ্চিত্রের প্রকৃত চিত্রনাট্যকার হিসেবে তাসনীমুল হাসানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগেও নতুন বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিগুলোর একটি। তাই পুরস্কার ঘোষণার ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুসরণ, তথ্যের যথার্থতা এবং জুরি বোর্ডের সুপারিশ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংশোধিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্কের অবসান ঘটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও সতর্কতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।