
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা অল্পের জন্য বড় বিপর্যয়ে রূপ নেয়নি। ঝোড়ো বাতাসে একটি শতবর্ষী আমগাছ ভেঙে পড়ে সরাসরি একটি চলন্ত প্রাইভেট কারের ওপর। এতে গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অলৌকিকভাবে ভেতরে থাকা চালক ও যাত্রীরা প্রাণে বেঁচে যান।
রবিবার (৩ মে) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে ফটিকছড়ি-রামগড় সড়কের পাইন্দং কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে। হঠাৎ করে শুরু হওয়া দমকা হাওয়াই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দুপুরে আবহাওয়া হঠাৎ খারাপ হয়ে যায় এবং দমকা বাতাস বইতে শুরু করে। সেই সময় সড়কের পাশে থাকা একটি পুরনো ও বিশাল আকৃতির আমগাছ শিকড়সহ উপড়ে গিয়ে চলন্ত প্রাইভেট কারটির ওপর পড়ে।
গাছটি এতটাই বড় ছিল যে, গাড়ির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে গাড়ির চালক বা যাত্রীরা কোনোভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ পাননি। তবে আশ্চর্যের বিষয়, এত বড় দুর্ঘটনার পরও কেউ গুরুতর আহত হননি।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের চেষ্টা করেন। যদিও বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবুও ঘটনাটি যে কোনো সময় ভয়াবহ রূপ নিতে পারত বলে মনে করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
গাছটি সড়কের ওপর পড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিস-এর একটি দল উদ্ধারকাজ শুরু করে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তারা গাছটি কেটে সড়ক থেকে সরিয়ে নেয়।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তিনি বলেন, “প্রাইভেট কারটির ওপর থেকে গাছটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।”
দীর্ঘ সময় পর বিকেল ৩টার দিকে সড়কটি আবার যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এতে স্বস্তি ফিরে আসে স্থানীয়দের মধ্যে।
এই ঘটনা আবারও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী অপসারণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, একটি সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা অলৌকিকভাবে এড়ানো গেলেও ঘটনাটি সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা হয়ে রইল। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা ও সচেতনতা।