
বাংলা রক সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী জেমস আবারও আলোচনায়, তবে এবার গানের জন্য নয়—একটি আবেগঘন পারিবারিক মুহূর্তের কারণে। তার এক বছর বয়সী ছেলে জিবরান আনামের সঙ্গে একটি মিষ্টি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ইতোমধ্যেই ভক্তদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, জেমস তার ছোট্ট ছেলেকে ড্রামস শেখাচ্ছেন। একটি প্র্যাকটিস প্যাডে বসে তিনি ধৈর্যের সঙ্গে ছেলেকে ড্রামস্টিক ধরার পদ্ধতি থেকে শুরু করে প্রাথমিক বাজানোর কৌশল শেখাচ্ছেন। শিশুটি, জিবরান আনাম, বাবার নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করার চেষ্টা করছে।
ছোট্ট জিবরানের কাছে ড্রামস যেন একটি খেলনা। তবুও তার চোখেমুখে যে কৌতূহল ও আগ্রহ দেখা যায়, তা ভিডিওটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বাবার পাশে বসে তার শেখার চেষ্টা দর্শকদের কাছে এক অনন্য দৃশ্য হয়ে উঠেছে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। নেটিজেনরা নানা মন্তব্যে ভরিয়ে দিয়েছেন পোস্টটি। কেউ লিখেছেন, “এ যেন রক্তের সঙ্গে রক্তের টান,” আবার কেউ বলেছেন, “রকের উত্তরাধিকার তৈরি হচ্ছে ছোটবেলা থেকেই।” অনেকেই এই মুহূর্তটিকে অত্যন্ত আবেগঘন ও অনুপ্রেরণাদায়ক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জেমসের ব্যক্তিজীবন নিয়েও সম্প্রতি ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে। গত বছরের ২২ অক্টোবর তিনি নিজের বিয়ে ও বাবা হওয়ার খবর প্রকাশ করেন। ২০২৪ সালে তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক নামিয়া আমিন-কে বিয়ে করেন।
এই দম্পতির ঘরে ২০২৫ সালের ৮ জুন জন্ম নেয় তাদের পুত্রসন্তান জিবরান আনাম। জন্মের পর থেকেই সন্তানকে নিয়ে বেশ গোপনীয়তা বজায় রেখেছিলেন জেমস। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে ভক্তদের সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো শেয়ার করতে শুরু করেছেন তিনি।
জেমস ও নামিয়ার পরিচয়ের গল্পটিও বেশ আকর্ষণীয়। ২০২৩ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের একটি অনুষ্ঠানে তাদের প্রথম দেখা হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় পরিচয়, যা পরবর্তীতে সম্পর্কে রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত বিয়েতে গড়ায়।
বর্তমানে পারিবারিক জীবন ও সঙ্গীত—দুটিই সুন্দরভাবে সামলাচ্ছেন জেমস। তার এই নতুন জীবনের অধ্যায় ভক্তদের কাছেও বেশ আনন্দের বিষয় হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, একটি সাধারণ পারিবারিক মুহূর্তই হয়ে উঠেছে অসাধারণ। বাবা-ছেলের এই বন্ধন শুধু একটি ভিডিও নয়, বরং ভালোবাসা, শেখা এবং উত্তরাধিকারের এক সুন্দর প্রতিচ্ছবি। জেমসের মতো একজন কিংবদন্তি শিল্পীর কাছ থেকে ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের ছোঁয়া পাওয়া—এটি জিবরানের জন্য নিঃসন্দেহে বিশেষ এক অভিজ্ঞতা।