
রাজধানীর ডেমরা এলাকায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে এক কলেজশিক্ষার্থী। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা শেষে সুইমিংপুলে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয় মো. সাকিব হোসেন (১৮)-এর। রবিবার (৩ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোনাপাড়া এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহত সাকিব কদমতলী এলাকার দনিয়া বড়বাড়ির বাসিন্দা ইলেকট্রিক মিস্ত্রি আরিফ আলীর একমাত্র ছেলে। তিনি স্থানীয় দনিয়া কলেজের চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের একমাত্র সন্তানের এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাকিবের বন্ধু ইফাত পাটোয়ারী জানান, তাদের এলাকার প্রায় ১৬ জন বন্ধু মিলে একটি স্পোর্টস সুবিধা ভাড়া নিয়েছিলেন। সেখানে মাঠে ফুটবল খেলার পর সবাই মিলে সুইমিংপুলে গোসল করতে নামেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সাকিব পানিতে তলিয়ে যায়।
বন্ধুরা প্রথমে বিষয়টি টের না পেলেও পরে তাকে খুঁজতে গিয়ে পানির নিচে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে সুইমিংপুলের কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর দ্রুত তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃতের বাবা আরিফ আলী জানান, সকাল ৯টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে খেলার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল সাকিব। দুপুরে তিনি খবর পান, তার ছেলে সুইমিংপুলে ডুবে গেছে এবং অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, সাকিব সাঁতার জানত না। এই তথ্যটি দুর্ঘটনার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সাঁতার না জানা ব্যক্তিদের জন্য সুইমিংপুল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এই ঘটনা আবারও জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা ও সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষ করে সুইমিংপুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাঁতার জানা, লাইফগার্ডের উপস্থিতি এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সুইমিংপুল কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সন্তানের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকা দরকার।
সব মিলিয়ে, একটি আনন্দঘন সময় মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকাবহ ঘটনায়। সাকিবের মৃত্যু তার পরিবার, বন্ধু এবং এলাকাবাসীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে থাকবে।