
মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব ব্যক্তিগত ও সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত যানবাহনে কোনো অতিরিক্ত কর আরোপ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনভোগান্তি ও অর্থনৈতিক চাপ বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। এর আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এসব যানবাহনের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করেছিল, যা আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা ছিল।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিসিভেদে মোটরসাইকেলে বছরে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা এবং এলাকাভেদে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা কর আরোপের পরিকল্পনা ছিল। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ত।
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, শুধু মোটরসাইকেল থেকেই বছরে প্রায় ১ হাজার ৫২০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হতো। তবে নীতিনির্ধারকরা শেষ পর্যন্ত জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেই পরিকল্পনা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে ১২ মে একটি জাতীয় দৈনিকে “বাইকের চাকা ঘুরলেই কর” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরটি প্রচার হলে মোটরসাইকেল মালিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
মোটরসাইকেল মালিক ও ব্যবহারকারীরা দাবি করেন, তারা ইতোমধ্যেই নিবন্ধন ফি, রোড ট্যাক্স, ফিটনেস, বীমা এবং জ্বালানির ওপর বিভিন্ন ধরনের কর পরিশোধ করে থাকেন। নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতো।
এর প্রতিবাদে তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সামনে ঘেরাও, মানববন্ধন এবং স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে পুনর্মূল্যায়ন শুরু হয়।
বর্তমানে দেশে শুধু সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, জিপ, বাস, ট্রাক ও পিকআপের মতো যানবাহনের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর আরোপ রয়েছে। মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় আগে কখনো এই ধরনের কর ছিল না।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যদিও এই যানবাহনগুলোতে অগ্রিম আয়কর থাকছে না, তবে ১৫০ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের মালিকদের করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নিতে হবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ ৭০ হাজারের বেশি। এই বিশাল সংখ্যক ব্যবহারকারীকে করের আওতায় আনার প্রস্তাবই শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হলো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা হলেও সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব আয় কমে যাবে। তবে সরকার জনস্বার্থ ও জনচাপকে বিবেচনায় নিয়েই এই নীতি পরিবর্তন করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় নতুন কর আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে আসায় আপাতত স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে।