
তিন দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকায় আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Hakan Fidan। সফরটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সফরের সময় তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এটি সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফরগুলোর একটি। সফরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করা।
সফরের শেষ দিন, অর্থাৎ ৬ জুন তিনি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের একজন সরকারের প্রতিনিধির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পাশাপাশি তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা বা মন্ত্রীর সঙ্গে এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র জানায়, তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, অবকাঠামো, শিক্ষা এবং প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে এবারের সফরে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানো বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তুরস্কের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা শিল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যার ফলে তারা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার করতে আগ্রহী। ফলে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকগুলোতে এই ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ প্রতিনিধি তুরস্ক সফর করেন। সেই সময় তিনি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যা এখন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।
ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক মহলে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও তুরস্ক উভয় দেশই নিজেদের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায়। এ কারণে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এছাড়া সফরের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংলাপ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের এই তিন দিনের ঢাকা সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।