
জাপানের কাওয়াগোয়ে শহরে নির্মিত একটি মসজিদকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনটি নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ফলে এটিকে এখন “অবৈধ নির্মাণ” হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, কাওয়াগোয়ে শহরে বসবাসকারী কিছু পাকিস্তানি নাগরিক এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। তবে পরে জানা যায়, জাপানের নগর পরিকল্পনা ও নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী যেসব অনুমতি প্রয়োজন ছিল, সেগুলো গ্রহণ করা হয়নি। বিশেষ করে এটি একটি নগর উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ এলাকায় নির্মিত হওয়ায় অনুমোদন ছাড়া নির্মাণ আইনত নিষিদ্ধ ছিল।
কাওয়াগোয়ে সিটি হলের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভবনটি নগর উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ এলাকায় নির্মিত হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া সাধারণত নির্মাণকাজ নিষিদ্ধ।” বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ভবনটি কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনার পর স্থানীয় কিছু বাসিন্দা মসজিদটি ভেঙে ফেলার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নির্মাণ প্রক্রিয়ায় আইন ও নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে যথাযথভাবে অবহিতও করা হয়নি। ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষ ভাঙার আবেদন গ্রহণ করেছে এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
ঘটনাটি প্রথম আলোচনায় আসে এপ্রিল মাসে, যখন জাপানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আবদুল হামিদ মসজিদটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরবর্তীতে বিষয়টি সামনে আসার পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়। এরপর টোকিওতে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাস এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করে।
দূতাবাস জানায়, তারা জাপানের আইন লঙ্ঘন করে পরিচালিত কোনো প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত নয়। পাশাপাশি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, জাপানে বসবাসরত পাকিস্তানিদের অবশ্যই স্থানীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মাণের ক্ষেত্রে সব ধরনের সরকারি অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।
দূতাবাসের ১ জুনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রদূতকে জানানো হয়েছিল যে মসজিদটি নির্মাণে জাপানের আইন অনুযায়ী সব অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, ৩১ মে প্রকাশিত আরেক বিবৃতিতে দূতাবাস পুনরায় সতর্ক করে জানায়, কোনো প্রকল্প স্থানীয় অনুমতি ছাড়া শুরু করা যাবে না এবং এমন প্রকল্পের সঙ্গে পাকিস্তান দূতাবাসের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি নির্মাণের আগে আশপাশের বাসিন্দাদের যথাযথভাবে অবহিত করা হয়েছিল কি না, তা-ও যাচাই করা হচ্ছে।
জাপানে সাধারণত নতুন স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত ও পরিবেশগত প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় কোনো ধর্মীয় বা বড় অবকাঠামো নির্মাণ হলে সেটি নিয়ে বিস্তারিত পরামর্শ ও অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই মসজিদটি শেষ পর্যন্ত থাকবে, নাকি ভেঙে ফেলা হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কাওয়াগোয়ে সিটি কাউন্সিল। পুরো ঘটনাটি এখনো পর্যালোচনাধীন অবস্থায় রয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।